বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা । দোষী কারা ?

আমি ইইই বিভাগের একজন ছাত্র, সাধারনত আমি আমার এই ব্লগে প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করি, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, যেগুলো না লিখলে আমার অন্যায় হবে। সম্প্রতি , আমাদেরই ভাই, আমাদেরই বন্ধু আববার ফাহাদ  নামক একটা বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কি কারনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেটা শুনলে যে কারোরই রক্ত মাথায় উঠে যাবে। শুধুমাত্র ফেসবুকে সে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল বলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কি পরিমান যন্ত্রনা দিয়ে মারা হয়েছে সেটা তার মৃত শরীর দেখলেই বোঝা যায়। মানুষ কতটা নির্মম হতে পারে সেটা বাংলাদেশের কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষন করলেই বোঝা যায় তার অন্যতম হলো এটি।


এখন পর্যন্ত আমার জানা সর্বশেষ খবর অনু্যায়ী বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই দশজন হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতয়ি বর্ষ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতয়ি বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।

এখন কথা হলো এটা কি শুধুই লোক দেখানো মামলা, এর আগেও আমরা দেখেছি অনেক সন্ত্রাসী খুন করছে নিরীহ মানুষদের এবং পুলিশ ও তাদের কাজ করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিন্তু আসামীরা দুইদিন পরেই ছাড়া পেয়েছে। হয়তো এবার ও তাই হবে, আসামীরা ২ দিন পরেই ছাড়া পাবে কিন্তু সারাজীবন কাদবে আবরারে পরিবার। বাংলাদেশের মাটি আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা সেখানে কিছু বিষাক্ত সাপ নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, আর এগুলো নিয়ে কেউ কথা বলতে গেলেই সে হয়ে যাচ্ছে শিবির কর্মী, সে হয়ে যাচ্ছে ঘুম, তাকে পিটিয়ে হত্যা করে রেখে যাওয়া হচ্ছে। এটাই কি বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা? এটাই যদি সোনার বাংলা হয় তাহলে চাইনা আমি এই সোনার বাংলা।

আমি শুধুমাত্র আমার মতামত প্রদান করলাম, আমি একজন প্রযুক্তি প্রেমী মানুষ, কোন রাজনৈতিক কার্যকালপের সাথে জড়িত নই, কিন্তু প্রতিবাদ করলেই আমাকে নিয়ে  গুজব হবে, আর সেই গুজবে হয়তো আমাকে হত্যা করা হবে। আমি বা আপনি কেউই এদেশের নিরাপদ নই।

বেশী কিছু লেখার ইচ্ছা থাকলেও লিখতে পারলাম না। লিখতে শুরু করলে শেষ করা যাবেনা। তার উপরে আবার ভয় তো আছেই, কারন বাংলাদেশের তো মানুষের চেয়ে পশুর পরিমান বেশী, বেশী কিছু লিখলে হয়তো এরপর আমাকেই স্বীকার করে বসতে পারে।









Post a Comment

0 Comments