এ্যাডসেন্স নামক সোনার হরিন পাওয়ার গল্প । নিজ জীবন থেকে নেওয়া এক সফলতার গল্প

Google Adsense is best ad Network in the world. I got adsense approval yesterday. Here how

গল্পের শুরুটা একটা ছোট্ট দুর্ঘটনা দিয়ে। আমি আমার গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরের একটি স্কুলে পড়তাম এবং প্রতিদিন ছোট্ট একটা সাইকেলে চড়েই যাওয়া আসা করতাম স্কুলে। সপ্তম শ্রেনীতে থাকাকালীন তথা ২০১০/১১ সালের দিকে একদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় সাইকেল থেকে পড়ে হাতে পায়ে চোট লাগে, এবং আমার সাইকেলটি আর চালানোর মতো থাকেনা। তখন সাইকেলটা ধরে হাটতে হাটতে বাড়ির পথে রওনা দিলাম এবং বাসায় পৌছাতে সেদিন আমার দুই ঘন্টা দেরি হয়। এবং দেরি হওয়ার কারনে আমাকে প্রথম একটি ফোন কিনে দেওয়া হলো আর এই সময় থেকেই শুরু হয় আমার গল্পের।


জীবনে প্রথম ফোন হাতে পাওয়ার পরের অনুভুতি ছিল ভিন্নরকম, সেই সময়টা খুব কম মানুষই ফোন ব্যবহার করতো। আমার ফোনটি ছিলো স্যামসাং এরই একটি অডিও ফোন, যে ফোনটিতে কোন ক্যামেরা ছিলনা তবে, ৩০ সেকেন্ডের ৫টি করে অডিও রেকর্ড় করা যেত। টেলিভিশন থেকে গান রেকর্ড করে সেগুলো মাঝে মাঝে শুনতে থাকলাম, যদিও সাউওন্ড ছিল একেবারেই কম। কিন্তু ৩০ সেকেন্ডের গান আর কত শুনবো। তাই মোবাইলে গেমস ডাউনলোড করার কথা চিন্তা করলাম, এবং এরপরে একদিন ফোনে গ্রামীনফোনের 'একটি ম্যাসেজ আসলো গেমস ডাউনলোড করার লিঙ্কসহ, কিন্তু কোন ভাবেই কোন গেমস ডাউনলোড করতে পারিনি কারন ফোনটিতে কোনো গেমস সাপোর্ট করেনা। তবে সেখান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা শিখেছি।

আমার জীবনে প্রথম ভিজিট করা ওয়েবসাইট হলো ইয়াহু ডট কম। প্রথম যখন ইহাহু থেকে একটি  ইমেজ ডাউনলোড করতে পেরেছিলাম সেই মজা টা ছিল অন্যরকম। ইহাহু ডট কমে ডুকলেই একটা ছোট্ট বার দেখতাম, সেখানে মনে যেটা আসতো সেটাই লিখতাম এবং খুজুন নামে একটা বাটন ছিল সেই বাটনে ফোনের এ্যারো কি চেপে চেপে সার্চ করতাম। এরপর মাথায় আসলো তাহলে আমার নিজের ছবি কিভাবে ডাউনলোড করা যাবে?সারাক্ষন আমি সেই সুপার স্লো ইন্টারনেট নিয়েই পড়ে থাকতাম।
আমার বড়ভাই/ কাজিন যার একটি নকিয়া মোবাইল ছিল সেই সময়, যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো এবং ঢাকাতেই থাকতো, একদিন বাসায় আসার পর আমি ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই আমার মোবাইলে নেট চালানো যায়, কিন্তু আমার নিজের ছবি কিভাবে মোবাইলে নেবো? তখন সে পরামর্শ দিল ফেসবুকে আমার ফোন থেকে একটা পিকচার আপলোড দিয়ে ডাউওনলোড করে নিলেই হবে।
বিষয়টা আমার কাছে যতটা সহজ মনে হয়েছিল, আসলে সেটা ছিল আমার কাছে অনেক কঠিন। ভাইয়া কে একটা ফেসবুক খুলে দিতে বলেছিলাম কিন্তু দেয়নি। নিজেই ফেসবুক খুলেছিলাম সেই সময়, আর এই সময়েই ডুকেছিলাম ইন্টারনেট জগতে।
এরপরের বছর স্কুল ট্রান্সফার করে গ্রামের স্কুলে চলে আসলাম, এবং ৮ম শ্রেনীর ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার পরে একটা নকিয়া সি ১ মডেলের ফোন কিনে নিয়েছিলাম যেটাতে ক্যামেরা ছিল এবং গেমস ও সাপোর্ট করতো ।
৯ম শ্রেনীতে একটি কোচিং সেন্টারে কোচিং করতাম, তো সেখানে প্রতিদিন ইংলিশের অজানা টপিসের প্র্যারাগ্রাফ লিখতে দিতো, কিন্তু আমার দ্বারা ইংলিশ হবেনা মনে করতাম, পড়াশোনায় ও ছিলাম ভিষন বাজে। প্র্যারাগ্রাফ বা রচনা ইংলিশে লিখতে দিলেই সার্চ করে ফেলতাম গুগলে নামক সার্চ ইজ্ঞিনে। আর পেয়ে যেতাম সবকিছু, আর লিখে ফেলতাম মোবাইল দেখেই। এভাবেই চলে স্কুল জীবন শেষ হলো চলে গেলাম নিজ শহরেরই একটি পলেটিকেনিক কলেজে। কলেজে থাকাকালীন সময় প্রথমে একটি এ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনলাম এবং বিভিন্ন বিষয়ে সার্চ করে বিভিন্ন ব্লগ পড়তাম এবং চিন্তা করতাম, ইন্টারনেটে এসব লিখে লেখকদের কি লাভ?
যদিও এর আগে ওয়াপকাতে মোবাইল ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখেছিলাম। খুজতে খুজতে পেয়ে গেলাম কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করে গুগল এ্যাডসেন্সের মাধ্যমে ইঙ্কাম করা যায়। শুরু হলো কিভাবে ওয়েবসাইট বানাতে হয় সেটা, এরপর ওয়াপকা ডট mobi শেষ হলো, ব্লগারে/ব্লগস্পটে শুরু করলাম লেখালেখি, লেখার মান খুব একটা ভালো না হলেও লিখতাম তবে সেটা বাংলাতে। এরপর এ্যাডসেন্সের ২ বার এ্যাপ্লাই করে দুইবারই রিজেকশন ইমেইল পেলাম।

তৃতীয়বার রিজেকশন ইমেইল পাওয়ার পর জানতে পারলাম এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষার কোন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়না। ১০০ টার মত ব্লগ লিখেছিলাম সেই সময়। এবং এই খবর জানার পর ডিলেট করেও দিয়েছিলাম পুরো ব্লগটি। এরপর ভাঙাচুরা ইংলিশ দিয়ে আবারও শুরু করলাম আমার লেখালেখি এবং এবারও ব্যর্থ'। এবার জানতে পারলাম কোন সাবডোমেইনে এ্যাডসেন্স এ্যাপ্রুভ করেনা। ডোমেইন হোষ্টিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম এবার।
ডিপ্লোমা ইজ্ঞিনিয়ারিং এর তৃতীয় সেমিস্টারে থাকা কালিন আমাকে একটা ল্যাপটপ কিনে দেওয়া হলো সেখানে শিখতে থাকলাম নতুন কিছু এবং জানতে থাকলাম ব্লগস্পট ওয়ার্ডপ্রেশ সম্পর্কে, এবং এর আগে কলেজের কম্পিউটার দিয়েই অনেক কিছু শিখেছি মনে হতো, কিন্তু ধীরে ধীরে মনে হলো কোন কিছুই জানিনা আমি।
ল্যাপটপ কেনার পর ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে নিলাম আমাদের ছাত্রাবাসে। শুরু হলো ইউটুউব দেখা। মাঝে আমি যেটা পারতাম সেটা নিয়েও ভিডিও বানাতাম। এভাবে কলেজ লাইফ পার হলাম, ঢাকায় চলে আসলাম, একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয়ে গেলাম। কিন্তু অন্যদিকে ইউটিউব থেকে কিছু আয় ও হতে থাকলো। ওয়েবসাইটের এ্যাডসেন্সের কথা ভুলেই গেছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন আগে চিন্তা করলাম যেহেতু আমার একটা ইউটিউব আছে সেহেতু চ্যানেলের নামে একটা ওয়েবসাইট করলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ। ব্লগস্পটে একটা ব্লগ খুলে ফেললাম, একটি ডোমেইন নিয়ে নিলাম। এবং আমার ইউটিউব চ্যালের ভিডিও গুলো আমার ব্লগে পোষ্ট করতে থাকলাম। এরপর ২ দিন আগে সাইটের সব গুলো পেজ ঠিকঠাক করে এ্যাপ্লাই করলাম এ্যাডসেন্সের জন্য। পরের দিনই আসলো নিচের মেইলটা।

ইমেইলটি দেখার পরে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মোবাইল থেকে ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখি সত্যিই এ্যাডসেন্স এ্যাপ্রুভ হয়েছে। মনে হচ্ছিল আসলেই সোনার হরিন পেয়েছি।

COMMENTS

BLOGGER: 2

Name

Android,18,Apps,8,Blogger,4,Career,2,Computer,5,Desh,2,featured,7,Freelancing,2,Gadgets,4,Games,2,Graphic Design,2,Hacking,2,New Products,1,Recent,1,Reviews,5,seo,1,Smartphone,5,Tech News,13,Tech World,2,Telecom,1,Template,1,Trending,6,Tutorials,13,Videos,6,
ltr
item
IT BAJ: এ্যাডসেন্স নামক সোনার হরিন পাওয়ার গল্প । নিজ জীবন থেকে নেওয়া এক সফলতার গল্প
এ্যাডসেন্স নামক সোনার হরিন পাওয়ার গল্প । নিজ জীবন থেকে নেওয়া এক সফলতার গল্প
Google Adsense is best ad Network in the world. I got adsense approval yesterday. Here how
https://1.bp.blogspot.com/-CV2FYhpg_xo/XgXaOj59HCI/AAAAAAAAPCo/Ot4wWMG0DOEd3NNKHqO_6sl2BrEOKzqNgCNcBGAsYHQ/s640/Google%2BAdsense%2BStory.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-CV2FYhpg_xo/XgXaOj59HCI/AAAAAAAAPCo/Ot4wWMG0DOEd3NNKHqO_6sl2BrEOKzqNgCNcBGAsYHQ/s72-c/Google%2BAdsense%2BStory.jpg
IT BAJ
https://www.itbaj.com/2019/12/blog-post.html
https://www.itbaj.com/
https://www.itbaj.com/
https://www.itbaj.com/2019/12/blog-post.html
true
4563811921205329999
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy